Friday, March 29, 2019


শুধুমাত্র চাকরির জন্য নয়,
 শিল্পের সম্ভাবনা ও চাকরির বাজার তৈরির জন্য নিজেকে উপযুক্ত করো

বক্তব্য- অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক ড. শিবময় দাশগুপ্ত
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাকরির বাজারের দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে. ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে এই বাজার তাই আগামী প্রজন্মকে চাকরির বাজার তৈরি করার জন্যে নিজেকে গড়ে তোলার ডাক দেওয়া হচ্ছে সর্বত্র. সম্প্রতি কলকাতায় আইলিড কলেজের তরফে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই বার্তাই দিলেন কলেজের চেয়ারম্যান প্রদীপ চোপরা. ওই অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাকাউট)-এর দুই অধ্যাপক ড. শিবময় দাশগুপ্ত এবং ড. প্রশান্ত নারায়ণ দত্ত. পেশাগত নানা কোর্স ও অল্প সময়ের মধ্যে নিজেকে গড়ে তোলার সার্টিফিকেট কোর্সের বিবরণ দিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন স্কুল পড়ুয়াদের পথে দেখালেন তাঁরা.

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন আইলিডের চেয়ারম্যান প্রদীপ চোপরা
কয়েক দশক আগে কী ভাবে ছোট্ট একটি ব্যবসা থেকে শুরু করে বর্তমানে কলকাতার প্রথম সারির ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সেটা পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরেন প্রদীপবাবু. পাশাপাশি বই পড়ার অভ্যাস তৈরি কতটা প্রয়োজনীয় নিজের জীবনের নানা ঘটনা তুলে ধরে সেটা পড়ুয়াদের বোঝান তিনি. অনলাইনে শিক্ষাসংক্রান্ত নানা রকমের ভিডিও দেখে নিজেদের সমৃদ্ধ করার পরামর্শ দেন তিনি. মাকাউটের উপাচার্য সৈকত মৈত্রের উদাহরন দিয়ে তিনি বলেন, উপাচার্যের মত মানুষ এখনও অনলাইনে শিক্ষামূলক ভিডিও দেখে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করেন. এ ভাবেই পড়ুয়া ও অধ্যাপকদেরও একই ভাবে অনলাইন ভিডিও দেখার ওপর জোর দিতে বলেন তিনি.  শিল্পের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দ্রুত চাকরির বাজার তৈরিতেও মন দিতে বলেন ওই অনুষ্ঠানে থাকা শিক্ষামহলের বিভিন্ন মানুষেরা.
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক ড. প্রশান্ত নারায়ণ দত্ত

তবে সব থেকে বেশি জোর দেওয়া হয় চাকরির বাজার তৈরি রতে পড়ুয়াদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি.প্রযুক্তি যে ভাবে দ্রুততার সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে সেখানে বাজার তৈরি করতে না পারলে হাতে গোনা কয়েকটি চাকরি দিয়ে আগামী প্রজন্মের উন্নতি করাও কষ্টসাধ্য. মাকাউটের অধ্যাপক শিবময়বাবু জানান, বিশ্ববিদ্যালয়  বিভিন্ন পেশাগত ও ভোকেশনাল কোর্স চালু করেছে. যার ফলে কোথাও চাকরি পেতে বা চাকরির বাজার তৈরি করতে নিজেদের য়োগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন পড়ুয়ারা. বর্তমানে ভোকেশনাল কোর্সকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ডিগ্রির মর্যাদা দিয়েছে. ওই কোর্সের স্নাতকোত্তর এমনকী গবেষণা পর্যন্ত করতে পারেন পড়ুয়ারা. অতীতে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাহিদা ও বর্তমানে সেই চাহিদা কোন পর্যায়ে রয়েছে সেটা পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরেন অধ্যাপক দাশগুপ্ত . স্নাতক কোর্স করতে মাকাউটের অধীনে থাকা 196টি কলেজ ও স্নাতকোত্তর কোর্স করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের কথা উল্লেখ করেন তিনি. ওই সমস্ত কোর্স করে কী ভাবে চাকরির বাজার তৈরি করা যায় তা দিক নির্দেশ করেন ওই অধ্যাপক.


পাশাপাশি স্বল্প সময়ে কী ভাবে নানা সার্টিফিকেট কোর্স করে নিজেকে উপযুক্ত করা যায় তার পথ দেখান অধ্যাপক প্রশান্ত নারায়ণ দত্ত. তিনি বলেন, উচ্চ মাধ্যমিকের পর দীর্ঘমেয়াদি তিন বছরের স্নাতক কোর্সের বিকল্প হিসেবে স্বল্পমেয়াদি তিন থেকে ছ মাসের এই কোর্সগুলিও রয়েছে. স্বল্পমাসের এই সার্টিফিকেট কোর্স গুলিতে চাকরির কোথায় সুযোগ রয়েছে এবং নিজে থেকেই কী ভাবে চাকরির বাজার তৈরি করা যায় সেই দিকে লক্ষ্য রাখার জন্য পড়ুয়াদের সচেতন করেন অধ্যাপক দত্ত. 


Tuesday, March 26, 2019


পশ্চিমবাংলার ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র শিল্পের বিশ্বায়নে উদ্যোগী মাকাউটের একতা


পর্যালোচনা-শালপাতার তৈরি থালার মানোন্নযন নিয়ে আলোচনায় একতার অধিকর্তা সুখেন্দু সমাজদার সহ প্রস্তুতকারকরা

শালপাতার থালা তৈরি হোক বা পাটের তৈরি কারুকার্য করা শিল্প. এ বাংলায় তার জুড়ি মেলা ভার. কিন্তু এই শিল্পকে শুধু  জেলা, রাজ্য বা দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না. যথার্থ অর্থে এই শিল্পের বিশ্বায়ন প্রয়োজন. যে কারণে সম্প্রতি  মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাকাউট) সল্টলেক ক্যাম্পাসে কেন্দ্রের বাণিজ্য মন্ত্রকের টাইফ্যাক এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি ক্ষুদ্রশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করিয়েছিল মাকাউটের একতা ইনকিউবেশন সেন্টার. কী ভাবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ওই সমস্ত শিল্পকে গোটা বিশ্বের বাজারে হাজির করানো যায় এটাই ছিল তার মূল লক্ষ্য.
প্রকারভেদ- কত মানের শালপাতা রয়েছে সেটা দিল্লির মন্ত্রকের সদস্যদের বোঝাচ্ছেন অধিকর্তা 

বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, কলকাতা, সহ বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষেরা এসেছিলেন তাঁদের শিল্পের নমুনা নিয়ে. টাইফ্যাকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁরা জানিয়েছেন ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে কী ভাবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শিল্পের উন্নতি ঘটানো যায়. একতা ও টাইফ্যাক সম্মিলিত ভাবে সেই সহযোগিতা করবে. ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র শিল্পকে বেছে নেওয়া হয়েছে যেগুলিকে উচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য এগোতে শুরু করেছে একতা ও টাইফ্যাক.


অন্যান্য শিল্পদ্যোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন দিল্লির টাইফ্যাকের সদস্যরা






বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈকত মৈত্র প্রথম থেকেই এই সমস্ত ক্লাস্টারের উন্নতিতে জোর দিতে পরামর্শ দিয়েছেন.  একতা-র অধিকর্তা অধ্যাপক ড. সুখেন্দু সমাজদার বলেন, বাংলায় ওই সমস্ত শিল্পের সঙ্গে বহু দেশই পাল্লা দিতে পারবে না. বিশ্বের দরবারে একবার এগুলিকে হাজির করাতে পারলে আগামী দিনে পিছন ফিরে দেখতে হবে না. আপাতত সেই লক্ষ্যেই কিছু করে দেখাতে আমরা বদ্ধপরিকর. এর ফলে যে শুধু বাংলার ব্যবসার উন্নতি হবে সেটা নয়, সেই মানুষগুলিকে সম্মান জানানো হবে যাঁরা প্রতিনিয়ত লড়াই করে বেঁচে থাকতে এই সমস্ত শিল্পকে আঁকড়ে ধরে রয়েছেন. তাঁদের মুখে হাসি ফোটানো যাবে.  

অনুষ্ঠান মঞ্চে অধিকর্তা










Monday, March 25, 2019


পাঠ্যক্রম ও পঠন-পাঠনে আদ্যোপান্ত ডিজিটালের ছোঁয়া


সল্টলেক ক্যাম্পাসে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বিষয়ে আলোচনা

আলতা হোক বা শাড়ি, গাড়ি হোক বা বাড়ি
 নানা সংবাদপত্রে, দেওয়ালে পোস্টার ও লিফলেট বিলি করেই চলত বিজ্ঞাপনের যাবতীয় কাজ. কিন্তু ক্রমশই সেই বাজারে ভাগ বসিয়েছে ডিজিটাল মাধ্যমমানুষের হাতের মধ্যে বিজ্ঞাপনকে মেলে ধরতে এই মাধ্যম ক্রমশই জনপ্রিয় হচ্ছে যে কারণে ডিজিটাল মার্কেটিং নামে কোর্সও চালু হয়েছে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েএ বার পড়ুয়াদের মধ্যে এই কোর্সচিকে কী ভাবে আরও জনপ্রিয় করা যায় তা নিয়েই সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সল্টলেক ক্যাম্পাসে কর্মশালার আয়োজন করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেখানে আসা বিভিন্ন কলেজের প্রতিনিধিদের এই বিষয়টি নিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে সচেতন করতে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে 
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করতেই হয়, ডিজিটাল মার্কেটিং শেখানো হবে অথচ পঠন পাঠনের পদ্ধতি হবে সাদা মাটা এই যুগলবন্দী কার্যত অসম্ভবব্ল্যাকবোর্ড, চক ডাস্টারের বদলে স্থান পেয়েছে প্রোজেক্টার ও কম্পিউটার তাই এই কর্মশালার আগেই ডিজিটাল লার্নিং ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৈকত মৈত্র সল্টলেক ক্যাম্পাসে হওয়া এক কর্মশালায় এই বিষয়ে তাঁর পরামর্শ, পঠনপাঠনের গোটা পদ্ধতিতে আরও বেশি করে ডিজিটাল পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে পুরনো পদ্ধতির বদলে পঠন পাঠন প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসতে হবে একেবারে নতুন ভাবন। ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে ক্লাসরুমকে




প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পঠন পাঠন শুরু হয়েছে। তবে লক্ষ্য রাখা জরুরী গোটা পদ্ধতি যেন সঠিক ভাবে কাজে লাগানো যায়। পাশাপাশি ওই কর্মশালায় উপাচার্য জানান, ম্যাসিভ ওপেন অনলাইন কোর্স (মুকস) চালু করে পড়ুয়াদের কাছে আরও বেশি করে পৌঁছে যেতে। শিক্ষামহলের মত, শিক্ষক-ছাত্রের সুসম্পর্কও এখন অনেকটাই ডিজিটাল পদ্ধতির ওপরে নির্ভর করছে। কারণ পাঠদানের সময়ে পড়ুয়াদের তথ্য ও জ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমের সাহায্য নিলে সেটা ছাত্রছাত্রীদের কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হবে।  
ওই কর্মশালায় উপাচার্য জানান, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মুকসের সুযোগ চালু হওয়ার ফলে অনলাইনে আরও বেশি কোর্স করতে পারবেন পড়ুয়ারা। আগামী দিনে ডিজিটাল লার্নিং ও ডিজিটাল মার্কেটিং হাত ধরাধরি করে আরও বেশি অগ্রসর হবে আর সেই পথে যেন মাকাউটের পড়ুয়ারা সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে  তার জন্য সদা সচেষ্ট মাকাউট।


পঠনপাঠনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করতে শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির পরামর্শ উপাচার্য সৈকত মৈত্রের

সমবেত: কালিম্পংয়ের অনুষ্ঠানে উপাচার্য ও কলেজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পড়ুয়ারা

সময়োপযোগী বিভিন্ন পাঠ্যক্রম চালু করেছে মাকাউট.


সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রমশ পরিবর্তিত হচ্ছে পাঠ্যক্রমের চাহিদা. সেই দিকে নজর রেখে প্রতিনিয়ত সেই তালিকায় সংযোজন হচ্ছে নিত্যনতুন কোর্সের. যে কারণে দীর্ঘ তালিকার পেশাগত কোর্স সম্পর্কে কালিম্পংয়ের বাসিন্দারাও যেন বিশদে জানতে পারেন এবং কলেজগুলিতে ওই কোর্সগুলি চালু হয় মূলত সেটা বোঝাতেই সম্প্রতি কালিম্পংয়ে গিয়েছিলেন উপাচার্য সৈকত মৈত্র.
কালিম্পংয়ের রকভেল ম্যানেজমেন্ট কলেজের ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিনান্স অফিসার ড.অত্রি ভৌমিক, আইলিড কলেজের চেয়ারম্যান প্রদীপ চোপড়া, এনএসএইচএম-এর অধিকর্তা কৃষ্ণেন্দু সরকার, আইএমএস এর অধিকর্তা ড. তাপস রঞ্জন সরকার, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে ড. অরিন্দম রায় এবং বিবিআইটি-র পক্ষ থেকে প্রিয়াঙ্কা চট্টোপাধ্যায়  প্রমুখ.
রকভেল ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধিকর্তা ক্যাপ্টেন প্রকাশমণি প্রধান মাকাউট পরিবারের সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলন করেন. সেখানে তিনি জানান, কালিম্পং এর বিদ্যার্থী, অভিভাবকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা পেশাগত ও অন্যান্য প্রশিক্ষণ মূলক কোর্স সম্পর্কে সচেতন করার জন্যই উপাচার্য সেখানে গিয়েছিলেন.  ওই অনুষ্ঠানে উপাচার্য জানান, পড়ুয়াদের মধ্যে শিল্পোদ্যোগী মনোভাব তৈরি এবং তাঁদের চাকরির উপযোগী করে তোলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে. সমাজের সর্বস্তরে ওই বার্তা পৌঁছনোর লক্ষ্যেই মাকাউট পরিবারের পক্ষ থেকে উপাচার্য কয়েকজনকে নিয়ে ওই অনুষ্ঠানে বার্তা দেন. রিয়েল এস্টেট ম্যানেজমেন্ট, বায়োটেকনোলজির মতো বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কলেজে চালু করা হয়েছে.
পঠন-পাঠন পদ্ধতিকে আধুনিকীকরণ এবং সময়োপযোগী করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সচেষ্ট. বেকার সমস্যা সমাধানেও অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়. অনলাইন কোর্সের ব্যবস্থা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়. যে কোনও চাকুরিজীবী বা কোনও ব্যবসায়ী যেন ঘরে বসেই কোর্স করতে পারে সেই কথা মাথায় রেখে এই উদ্যোগ. বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরে রয়েছে, বিভিন্ন প্রতিযোগীতার মধ্য দিয়ে কালিম্পংয়ের পড়ুয়াদের মধ্যে থাকা উদ্ভাবনী শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটানো. তার ওপর ভিত্তি করেই ওই সমস্ত পড়ুয়াদের উচ্চ শিক্ষার দিশা দেখাবে বিশ্ববিদ্যালয়. প্রসঙ্গত, কালিম্পংয়ে এই কলেজটিই একমাত্র মাকাউট অনুমোদিত কলেজ. এই কলেজেও পেশাগত বিভিন্ন কোর্স চালু হতে চলেছে.


কালিম্পংয়ের অনুষ্ঠানে
অভিনন্দনঃ কালিম্পংয়ের অনুষ্ঠান মঞ্চে উপাচার্য সৈকত মৈত্রের সঙ্গে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পদাধিকারীরা





বক্তব্যঃ শিলিগুড়ির অনুষ্ঠান মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন উপাচার্য সৈকত মৈত্র
শিক্ষাকে বাহন করার বদলে বহন করে চলায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর. দোল যাত্রার আগে শিলিগুড়িতে এক আলোচনা সভায় সেই সূত্র ধরেই সমাজের কাজে দলবদ্ধ ভাবে পড়ুয়াদের কাজে লাগানোর বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাকাউট) উপাচার্য সৈকত মৈত্র. সৃজনশীলতা, প্রকৌশল জ্ঞান, নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা ও ডিজিটালের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে পড়ুয়ারা যেন শিল্প ও সমাজের উন্নতি করতে পারে, সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সেই পরামর্শ দেন তিনি. সম্প্রতি মাকাউটের জোন 1-এর নোডাল সেন্টার টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের শিলিগুড়ি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এসআইটি)-তে নিউ অ্যাকাডেমিক ইকো সিস্টেম নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় এই বক্তব্য রাখেন উপাচার্য.




শিলিুগুড়িতে উপাচার্যের সঙ্গে বিশিষ্টরা
অ্যাকাডেমিক ইকো সিস্টেম – এই নামের মধ্যে দিয়েই সকলকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, শিক্ষা ও সমাজের যে বাস্তুতন্ত্র রয়েছে সেটাকে রক্ষা করতে হবে. পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যেমন একে অপরের পরিপূরক. ঠিক একই ভাবে শিক্ষাকে সমাজ ও শিল্পের কাজে লাগাতে হবে. তাহলেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই অসম্তোষ মিটবে বলে আশা শিক্ষা মহলের.  ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেন জলপাইগুড়ি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, গনিখান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, কালিম্পংয়ের রকভেল ম্যানেজমেন্ট কলেজ, শিলিগুড়ি  ইনম্পারিয়া নলেজ ক্যাম্পাস, মালদহের আইএমপিএস কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তি, শিলিগুড়ি আইআইএএস স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট এর অধ্যাপক ও অধিকর্তারা.  অনুষ্ঠানে প্রায় 115 জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন.   
উপাচার্য পঠন পাঠনের পদ্ধতিতে প্রযুক্তিকে আরও বেশি করে ব্যবহার করার পরামর্শ দেন. তিনি জানান, প্রযুক্তি ও তার সাহায্যে উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পড়ুয়াদের সামগ্রিক বিকাশ করতে হবে. শিক্ষামহলের অধিকাংশই উপাচার্যের বক্তব্যের সমর্থন করেছেন. অধিকাংশেরই মত, প্রযুক্তির সাহায্যে বর্তমানে অনেক জটিল সমস্যারই সহজেই সমাধান করা যায়.  তাই পঠন পাঠনের পদ্ধতি হোক বা প্রয়োগ সর্বত্রই প্রযুক্তির ছাপ থাকা আবশ্যিক.এ ভাবে উদ্ভাবনী সম্ভাবনাকে সমাজের কাজে ব্যবহার করতে পারলে মাকাউটের অধীনে থাকা 196টি সরকারি ও বেসরকারি কলেজের প্রায় দেড় লক্ষ পড়ুয়ারা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে যে অবদান রেখে যাবে সেটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার…

সংবাদপত্রে প্রকাশ

টুকরো মুহুর্ত



















Monday, March 11, 2019


পড়ুয়াদের পথের দিশা দেখাতে কলকাতা বইমেলায় (২০১৯)পশ্চিমবঙ্গের মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ম্যাকাউট) এর স্টল















৪৩ তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় (২০১৯) ম্যাকাউট এর স্টলের উদ্বোধনে  উপাচার্য সৈকত মৈত্র সঙ্গে অন্য অধ্যাপকেরা
·       ২০১৯-এর ৩১ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্র্রুয়ারি পর্যন্ত সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে ৪৩ তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় দিব্যেন্দু পালিত হলে ৭৯ নম্বর স্টলে হাজির ছিল ম্যাকাউটের পরিবার। এক ধাপ এগিয়ে এই পরিবারে থাকা বিভিন্ন কলেজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে আমাদের পরিবারে রয়েছে দেড় লক্ষের বেশি পড়ুয়া ও ১৯৬-এর বেশি কলেজ। কোর্সের সংখ্যা রয়েছে ১৪০ এর ‍বেশি। আমাদের প্রধান লক্ষ্যই ছিল এই পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের আরও বেশি করে ভবিষ্যতের দিশা দেখাতে সাহায্য করা। এছাড়া নতুন প্রজন্মের সামনে উচ্চশিক্ষার এক অভিনব দ্বারোদঘাটনও ছিল আমাদের উদ্দেশ্য।



v  স্কুল কানেক্ট প্রোগ্রাম





     আলোচনা-পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় ম্যাকাউট ও কলেজের প্রতিনিধিরা

·         বিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হওয়ার আগে থেকেই পরবর্তী উচ্চশিক্ষার জন্য দুশ্চিন্তা চেপে বসে পড়ুয়াদের ওপরে। সেই দুশ্চিন্তার পারদ ক্রমশ বাড়তেই থাকে। বিশেষ করে অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে যে দুশ্চিন্তায় থাকেন, সেই সময় এই বইমেলায় তাঁদের পথের দিশা দেখাতে “ কেরিয়ার গাইড বুক ” (সিজিবি) নিয়ে হাজির হয়েছিল ম্যাকাউট।




কেরিয়ার গাইড বুক



·         স্নাতক স্তরের পেশাগত, প্রশিক্ষণমূলক, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সার্টিফিকেট কোর্সের তথ্য বিবরণ নিয়ে তৈরি হয় এই সিজিবি। প্রতিটি কোর্সের সম্ভাব্য পেশাগত দিক, কোর্সে শিক্ষণীয় যাবতীয় তথ্য পেয়ে খুশি অভিভাবকেরা। বাঘাযতীনের এক বাসিন্দা অমিতাভ মজুমদার বলেন, “এই বইটি সত্যিই ভীষণ উপযোগী। উচ্চ মাধ্যমিকের পর কোন কোর্স নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যায় সেই সিদ্ধান্ত নিতে এই বইটি বিশেষ ভাবে সহযোগিতা করবে।”

Ø  তবে শুধু বই দিয়েই কাজ সেরে ফেলা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের প্রতিনিধিরা পড়ুয়া ও অভিভাবকদের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তাঁদের উচ্চশিক্ষার পথ বেছে নিতে সাহায্য করেছেন। এই বইমেলায় আধিকাংশ অভিভাবকেরা জোর দিয়েছেন কোন কোর্সে চাকরির কত সুযোগ সুবিধা রয়েছে। সেই সমস্ত তথ্য বিস্তারিত ভাবে তাঁদের জানানো হয়। সিজিবি-তে বিস্তারিত ভাবে তার উল্লেখও রয়েছে। এছাড়া এমন বহু কোর্স রয়েছে যেগুলি পরবর্তী সময়ে ব্যবসার দরজা উন্মুক্ত করে। অভিভাবকেরা সেই সমস্ত কোর্স সম্পর্কে বিশদে খোঁজ নেন।


v  ভিন রাজ্যে নয়, এ রাজ্যেই রয়েছে ঞ্জিনিয়ারিং, ম্যানেজমেন্ট, পেশাগত,       প্রশিক্ষণমূলক ও সার্টিফিকেট কোর্সের আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

§  ব্রেন ড্রেন নামক শব্দটি লোক মুখে বেশ প্রচলিত। মেধা যেন রাজ্যের বাইরে না চলে যায় তার জন্য উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। সেই কাজে সদা সতর্ক ম্যাকাউট। তাই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (এআইসিটিই)-র অধিকাংশ কোর্স এ রাজ্যের প্রায় দুশোটি কলেজে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পড়ানো হয়। এই বইমেলায় পৃথক  ভাবে সেই সমস্ত কোর্সের উল্লেখ করে পডুয়া ও অভিভাবকদের সচেতন করা হয়েছে। অনেক কম খরচে নিজেকে স্নাতক পাশ করে নিজেকে কীভাবে উপযুক্ত করে তুলতে হয় সেই বিষয়ে বিশদে জানানো হয়েছে তাঁদের। বই প্রেমীরা বই কেনার ফাঁকে জেনে গিয়েছেন উচ্চ শিক্ষার রূপরেখাও।


v  পডুয়া ও অভিভাবকদের প্রশ্নমালা ও পরামর্শ-

·       কোন কোর্সে চাকরির সম্ভাবনা বেশি?
·       কোন কোন কোর্সে পিএইচডি করা যায়?
·       সিজিবি অনলাইনে হলে ভাল হয়।
·       হস্টেলের সুযোগ সুবিধা কেমন?

v পথ পাঠাগারের জন্য বই দান করেছেন বই প্রেমীরা

বই দান করছেন বই প্রেমীরা
Ø  বই এর গন্ধ ও পৃষ্ঠার স্পর্শ সুখে এখনও থমকে যায় বহু মানুষের মন। তাই মোবাইল ও ইন্টারনেটের যুগেও ভিড় উপচে পড়ে। বই পড়ার প্রয়োজন ও ভালবাসার তাগিদে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় স্ট্রীট লাইব্রেরী বা পথ পাঠাগার তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছে ম্যাকাউট। বই মেলার স্টলে এই বিষয়ে প্রচার চালানো হয়। সেখানে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোন করে বই দানের কথা জানালে তাঁদের বাড়ি থেকে  ম্যাকাউটের প্রতিনিধিরা বই নিয়ে আসবেন। কিছু বইপ্রেমীরা বইমেলার ওই স্টলেই বই দেন। শতাধিক বই জমা পড়ে ওই স্টলেই। এক বইদানকারী বলেন , “আমার প্রিয় বইগুলি বিশ্বাবিদ্যালয়কে দিলাম। আশা করি সকলে উপকৃত হবেন।”

আবার দেখা হবে অন্য কোনও মেলায়, অন্য ভাবে...............

কলেজ পরিদর্শনে এ বার যুক্ত হল প্রযুক্তি. কলেজের পরিকাঠামোর ওপর নজরদারি বা পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলার জন্য আর সশরীরে কলেজে যাওয়ার প্রযোজন নেই. বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই গোটা বিষয়ে নজরদারি করা যাবে. অভিনব এই উদ্যোগ নিয়েছে  মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাকাউট).





সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সল্টলেক ক্যাম্পাস থেকে ভিডিও কনফারেন্স করে ভারতীয় বিদ্যাভবন ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স এর পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলেন উপাচার্য সৈকত মৈত্র. নিজেই দেখে নেন কলেজের পরিকাঠামো এবং গোটা পরিস্থিতি.
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রায় দুশোটি কলেজ রয়েছে. প্রতিটি জায়গায়  পরিদর্শন করতে যে পরিমাণ অর্থ ও সময় ব্যয় হত তার থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া গেল এই ডিজিটাল ইন্সপেকশনের মাধ্যমেই. এ দিন ওই কলেজের পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপাচার্য. ডিজিটাল ইন্সপেকশন করেন. তিনি জানান, কম সময়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে গোটা জিনিস নিজের চোখে দেখে নেওয়া যায়. ঘটা করে পরিদর্শন দল গঠনেরও প্রয়োজন নেই. একই ভাবে কাগজ নষ্ট করে বারবার সেই রিপোর্ট পেশ করারও দরকার পড়ে না. কিন্তু চোখের সামনে বাস্তবটা ধরা পড়ে. এ দিন থেকে শুরু হল. এ বার থেকে এ ভাবেই পরিদর্শন ও পড়ুয়াদের সমস্ত কথা শোনা হবে প্রযুক্তির সাহায্যেই.
পড়ুয়াদেরও  অভিযোগ থাকে যে তাঁরা বিশ্ববিদ্য়ালয়কে হাতের কাছে পান না. এই পদ্ধতিতে প্রত্যেকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে যোগযোগ রাখতে পারবেন পড়ুয়ারা. ভিডিও কনফারেন্সের সাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের পরিকাঠামোগত কোনও ভুল ধরা  পড়লে দ্রুত তা মেরারমতি করার পরামর্শও দেওয়া যাবে. ফলে গোটা প্রক্রিয়াটিই দ্রততার সঙ্গে হবে বলেই আশা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ. রিপোর্টও দ্রুত পেশ করা যাবে.